প্রকৃতিতে বইছে শীতল হাওয়া। দিন যত যাবে শীতের তীব্রতা তত বৃদ্ধি পাবে। এই শীতে সুস্থ থাকতে হলে নিতে হবে বাড়তি সতর্কতা। এ সময় তুলনামূলক শরীর বেশি খারাপ হয়ে থাকে। শরীরের প্রস্তুতির সঙ্গে শীতের সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ঠিকমতো প্রস্ততি নেওয়া হয়েছে তো। নিত্য ব্যবহারের জিনিসগুলো সময়মতো ব্যবহার না করার ফলে বাধিয়ে ফেলতে পারেন বড় কোনো অসুখ।
শীতের প্রয়োজনীয় গরম কাপড়সহ গৃহস্থালির টুকিটাকি ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। এই বিষয়গুলোতে সতর্ক না থাকলে পরিবারের যে কেউ অসুস্থ হয়ে যেতে পারে।
ঋতু পরিবর্তনের পর এমনিতেই কিছুটা বাড়তি প্রস্তুতি নিতে হয়। আর শীত হলে তো কথাই নেই। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। শিশুরা ঋতু পরিবর্তনের এই সময় সবচেয়ে বেশি রোগে আক্রান্ত হয়। এজন্য এ সময় শরীরের পাশাপাশি ঘর-গৃহস্থালিসহ শীত সম্পর্কীয় বিভিন্ন দিকে নজর দিতে হবে।
ঋতু পরিবর্তনের পর এমনিতেই কিছুটা বাড়তি প্রস্তুতি নিতে হয়। আর শীত হলে তো কথাই নেই। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। শিশুরা ঋতু পরিবর্তনের এই সময় সবচেয়ে বেশি রোগে আক্রান্ত হয়। এজন্য এ সময় শরীরের পাশাপাশি ঘর-গৃহস্থালিসহ শীত সম্পর্কীয় বিভিন্ন দিকে নজর দিতে হবে।
শীতের সময় পুরনো গরম কাপড় ব্যবহার করতে হয়। তাই গরম কাপড় ব্যবহারের আগে ভালো করে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। শীতের হাওয়া বইতে শুরু করলেই আলমারি বা ট্রাঙ্কে তুলে রাখা শীতের কাপড় বের করে রোদে শুকাতে দিতে হবে। অনেক দিন ব্যবহার না করার ফলে এসব গরম কাপড় ব্যবহারের উপযোগী নাও থাকতে পারে। উপযোগী না করে ব্যবহারের ফলে যে কেউ শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন।
যদি সম্ভব হয় তাহলে শীতের জন্য নতুন পোশাক কিনে ব্যবহার করতে পারেন। বাজার থেকে নতুন শীতের পোশাক কিনে ব্যবহার করার আগে অবশ্যই ভালোভাবে ধুয়ে ব্যবহার করতেন। আর শীতের শুরুতেই গরম কাপড়ের পোশাক ক্রয় করলে তুলনামূলক কিছুটা কম দামে কেনা যায়।
শীতের সময় সুস্থ থাকার জন্য সবদিকে সমানভাবে নজর দিতে হবে। খাদ্যাভ্যাস, রূপ কিংবা ত্বক সর্বোপরি মানসিক বিষয়ের দিকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। এর ফলে আরামে থাকবেন শীতের সময়। শিশুদের প্রতি বাড়তি সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। অতিরিক্ত গরম কাপড় ব্যবহারে শিশুদের শরীর ঘেমে যেতে পারে। এজন্য তাদের দিকে ঘুমের সময় লক্ষ রাখতে হবে। ঘেমে যাওয়ার পর শরীরেই ঘাম শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে। ঘেমে গেলে পরিষ্কার পাতলা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিতে হবে। না হলে শিশু অসুস্থ হয়ে যেতে পারে।
শীতের সময় ঘরে স্লিপার, চটি বা স্যান্ডেল পরে হাঁটুন। সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় শিশুকে ভালোভাবে গরম কাপড় পরিয়ে নিন। শীতের সময় নিজেকে শারীরিকভাবে সুস্থ রাখার জন্য শীতের সবজি খেতে দিতে হবে। শীতে বিভিন্ন রকম সুস্বাদু শাক-সবজি পাওয়া যায়।
এ সময় অন্য খাবারের চেয়ে শীতের শাক-সবজি বেশি খেলে শরীরের জন্য ভালো। স্বাদের সঙ্গে শরীরের পুষ্টি অভাবও পূরণ করবে। এ ছাড়া শীতে প্রচুর দেশীয় ফলমূল পাওয়া যায়। এগুলো খেলেও শরীরের পুষ্টি ঘাটতি পূরণ করা যায়। শীতের দিনে গরম কালের মতো পানির পিপাসা তেমন পায় না। তাই বলে শীতের সময় কম পরিমাণে পানি পান করা যাবে না।
যথেষ্ট পরিমাণ পানি পান না করলে শরীরে নানা রকম সমস্যা হতে পারে। শীতে প্রচুর পানি ও শরবত খান। এতে শরীর সুস্থ থাকার পাশাপাশি ত্বক থাকবে মসৃণ। এ সময় সকালে মধু খেতে পারেন নিয়মিত। খাঁটি মধু শরীরের জন্য অনেক বেশি উপকারী। শীতের সময় পরিবারের সবাইকে নিয়ে প্রিয় কোনো স্থানে বেড়িয়ে আসতে পারেন।
এ সময় ঝড়-বৃষ্টি আর গরমের ঝামেলা নেই বললেই চলে। তাই শীতকাল এসব ঝক্কি-ঝামেলা ছাড়াই বেড়ানোর জন্য বেশ উপযোগী সময়। আর প্রকৃতিতে যে ঋতুই আসুক না কেন শরীর ভালো রাখার জন্য ব্যায়াম হোক নিত্যসঙ্গী।
এই শীতেও থাকবে সতেজ। চলুন জেনে নিই সেগুলো কী?
১. প্রয়োজন অনুসারে গরম কাপড় ব্যবহার করুন। শরীরের উন্মুক্ত অংশগুলোকে ঢেকে রাখুন।
২. ত্বকে ময়েশ্চারাইজার অথবা গ্লিসারিনের সঙ্গে সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে মাখুন। সাইট্রাস ফল যেমন আপেল, কমলা, লেবু ইত্যাদির রস লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। ত্বক সতেজ থাকবে।
৩. মুখে ভালো কোন কোল্ড ক্রিম ব্যবহার করুন। পাকা কলা, পাকা পেঁপে, সয়াবিনের গুঁড়ো অথবা ময়দা পেস্ট করে মুখে লাগান। ১০ থেকে ১৫ মিনিট রাখুন। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকে টানটান ভাব আসবে।
৪. ভ্যাসলিন সংগে রাখুন। ঠোঁট শুকিয়ে গেলেই ভ্যাসলিন মাখুন। ঠোঁটের শুষ্ক আবরণ টেনে তুলবেন না। জিভ দিয়ে বার বার ঠোঁট লেহন করবেন না। ঠোঁট ফাটা থেকে রক্ষা পেতে রাতে ঘুমোতে যাবার আগে মধু এবং গ্লিসারিন একসাথে মিশিয়ে ঠোঁটে লাগাতে পারেন।
৫. মেকআপ ত্বককে শুষ্ক করে ফেলে এবং ত্বকে হাইপার পিগমেন্টেশন করে ফলে ত্বক কালো হয়ে যায়। তাই খুব প্রয়োজন না হলে মেকআপ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন।
৬. শীতে মুখ ধোয়ার ক্ষেত্রে সাবানের পরিবর্তে ত্বকের ধরন অনুযায়ী ক্লিনজার ব্যবহার করুন। দুধ, ময়দা এবং ঘিয়ের মিশ্রণ একটি ভালো ক্লিনজার যা আপনার ত্বককে আর্দ্রতা থেকে বাঁচাবে।
৭. বেশিক্ষণ রোদে থাকবেন না। রোদে বের হলে সানব্লকার বা সান প্রটেকটিং ফ্যাক্টর ২৫ বা তার বেশি ব্যবহার করতে পারেন।
৮. শীতে গোসলের সময় অত্যধিক গরম পানি ব্যবহার করবেন না। গরম পানি ত্বকের তেল শোষণ করে ত্বককে শুষ্ক করে তোলে। তাই গোসলের সময় ত্বকের জন্য সহনীয় কুসুম গরম পানি ব্যবহার করতে পারেন।
৯. আবহাওয়া শুষ্ক থাকায় এ সময় খুশকি বাড়ে। খুশকি কমাতে চুলের গোড়ায় হট অয়েল বা লেবুর রস ম্যাসাজ করতে পারেন। অথবা মেডিকেটেড শ্যাম্পু ব্যবহার করলে ভালো হয়। কিটোকোনাজল, অ্যালোভেরা বা টার শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।
১০. প্রতিদিন ভোরে আধ গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক চা চামচ মধু ও এক চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন। আপনার ত্বক থাকবে লাবন্যময়।
